Shri Shri Thakur Anukul Chandra

profile image

উন্নয়ন আর সুপ্রজনন

এই তো বিয়ের মূল,

যেমন তেমন করে বিয়ে

করিস নে কো ভুল |

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র

Development and Suprajanana

This is the core of the wedding,

As much as marriage

Don't make mistakes.

Shri Shri Thakur Anukul Chandra

প্রশ্ন– বিবাহ কাকে বলে?

শ্রীশ্রীঠাকুর – প্রকৃষ্টরুপে বহন করাকেই বিবাহ বলে।যে বহন করিবে(আর এ বহন যত প্রকারে হইতে পারে)।

প্রশ্ন–বিবাহ কত প্রকার ও কি কি?

শ্রীশ্রীঠাকুর – ৮ প্রকার । যথা-ব্রাহ্ম,দৈব,আর্ষ,প্রাজাপত্য,আসুর,গান্ধর্ব,রাক্ষস ও পৈশাচ বিবাহ।

প্রশ্ন-আপনি বিয়ের পরে এত জোর দেন কেন?

শ্রীশ্রীঠাকুর – একটা বিয়েও যদি কোথায়ও বেমিসিল হ’য়ে যায়,বংশ পরম্পরায় তা যে কত অপোগন্ড ও অব্যবস্থের আমদানী ক’রে থাকে তার ইয়ওা করা যায় না।লাখ মহাপুরুষ ও শিক্ষা-ব্যবস্থার পক্ষেও তা’দের মানুষ করা দুরুহ হ’য়ে ওঠে।বিসমিল্লায় গলদ!করবে কি ক’রে?তাই আমি বিয়ে-থাওয়া ও সুপ্রজননের কথা এত ক”রে বলি।

প্রশ্ন- বিবাহ কেমন করে করতে হবে?

শ্রীশ্রীঠাকুর – উন্নয়ন আর সুপ্রজনন/এই তো বিয়ের মূল,/যেমনি-তেমনি ক’রে বিয়ে/করিস না কো ভুল।

প্রশ্ন–পুরুষের বিবাহ কিসের স্বার্থে হওয়া উচিত?

শ্রীশ্রীঠাকুর – ইষ্ট-স্বার্থপ্রতিষ্ঠা যা’র/পরিণয়ের মূলে,/তা’রই বিয়ে সার্থক হয়/বংশ ওঠে দুলে’।

প্রশ্ন–কেমন পুরুষকে নারী বরণ করবে?

শ্রীশ্রীঠাকুর – সৎস্বভাবে পরাণ-পাগল/সেই তো রে তোর বর,/সব দিকে তোর শ্রেষ্ঠ হ’লে/তা’রেই বরণ কর।

প্রশ্ন–নারীর সওার প্রতীক কে?

শ্রীশ্রীঠাকুর – নিজ সওার প্রতীক পুরুষ/সে তো নারীর স্বামী,/তা’রই জীবন-সাথী নারী/ধর্ম্ম-অনুগামী।

প্রশ্ন–নারী কখন শ্রেষ্ঠকে-বরণের অধিকারী হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর – রজস্বলা হ’লেই নারী/বর-বরণে অধিকারী।

প্রশ্ন–বিবাহে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য কেমন হওয়া উচিত?

শ্রীশ্রীঠাকুর – যাতে স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবন্ধ থাকে এমনতর বয়স ও বুদ্ধিরর পার্থক্য যা’তে হয় তা’ও আমাদের করতে হবে।মহামুনি সুশ্রত বলেছেন–মেয়ে ও ছেলের ভিতর অন্ততঃ দশ হইতে বার বছর পার্থক্য না হ’লে, সন্তান সর্ব্বেন্দ্রিয় দুর্ব্বল হইয়া জন্মগ্রহন করে,–আমারও মনে হয় তাই।

প্রশ্ন-বংশধারা শুদ্ধ রাখা যায় কিভাবে?

শ্রীশ্রীঠাকুর – বংশধারা শুদ্ধ রাখিস/সদৃশ ঘরে ক’রে বিয়ে,/বিশুদ্ধতা রাখলে বজায়/বৃদ্ধি পাবি ক্রমান্বয়ে।

প্রশ্ন-কখন বংশ বৃদ্ধি পায় ও নাশ হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর – সমান বিয়ের সাম্য ধাঁজ/অনুলোমে বাড়ায় ঝাঁঝ,/প্রতিলোমে কুপোকাৎ/বিশ্বাসঘাতক বংশপাত।

প্রশ্ন–সুসঙ্গত বিবাহ কাহাকে বলে?

শ্রীশ্রীঠাকুর – যারা ঈশ্বরকে মানে, প্রেরিত পারম্পর্য্য স্বীকার করে,পিতৃপুরুষকে স্বীকার করে ও তাঁদের নাম ভাঁড়ায় না,বর্ণ-ধর্ম্মের বৈজ্ঞানিক ভিওিকে যারা অনুশীলন ক’রে চলে,সওাসম্বর্দ্ধনী শ্বাশত প্রাচীন বিধান ও কুলকৃষ্টিকে যারা পরিত্যাগ তো করেই না বরং তারই পরিপূরণতৎপর যারা, যারা নিজের বৈশিষ্ট্য হারায় না এবং অন্যের বৈশিষ্ট্যকে শ্রদ্ধা করে ও পোষণ দেয়,যারা প্রতিলোম পরিণয়,বিবাহ-বিচ্ছেদ বা আপদ্ধর্ম্ম হিসাবে ছাড়া নারীর পত্যন্তর গ্রহণ অনুমোদন করে না,ব্যভিচারকে প্রশয় দেয় না যারা বরং নিয়ত পরিশুদ্ধি প্রয়াসশীল,শুচিতা ও সতীত্ব সম্পূজিত যেখানে,সৎ-দীক্ষা ও সদাচার অনুপালনশীল যারা,তারা যে কোন সম্প্রদায় ভুক্তই হোক না কেন,তাদের পরস্পরের মধ্যে সদৃশ ঘরে ও সমীচীন অনুলোমক্রমে নারী-পুরুষের সর্বাঙ্গীন সঙ্গতি দেখে বিয়ে-থাওয়া চলতে পারে।একেই বলে সুসঙ্গত বিবাহ।

(সূএঃ-নারীর নীতি,অনুশ্রুতি,নানাপথে,আলোচনা প্রসঙ্গে)

ব্রাক্ষ্মন পাত্র + ক্ষত্রিয় পাত্রী = অনুলোম বিবাহ ( অসবর্ণ) ব্রাক্ষ্মন পাত্র + বৈশ্য পাত্রী = অনুলোম বিবাহ ( অসবর্ণ ব্রাক্ষ্মন পাত্র + শূদ্র পাত্রী = অনুলোম বিবাহ ( অসবর্ণ ব্রাক্ষ্মন পাত্রী + ক্ষত্রিয় পাত্র = প্রতিলোম বিবাহ ( অসবর্ণ ব্রাক্ষ্মন পাত্রী + বৈশ্য পাত্র = প্রতিলোম বিবাহ ( অসবর্ণ ব্রাক্ষ্মন পাত্রী + শূদ্র পাত্র = প্রতিলোম বিবাহ ( অসবর্ণ ক্ষত্রিয় পাত্র + বৈশ্য পাত্রী = অনুলোম বিবাহ ( অসবর্ণ ক্ষত্রিয় পাত্র - শূদ্র পাত্রী = অনুলোম বিবাহ ( অসবর্ণ ক্ষত্রিয় পাত্রী + বৈশ্য পাত্র = প্রতিলোম বিবাহ ( অসবর্ণ ক্ষত্রিয় পাত্রী + শূদ্র পাত্র = প্রতিলোম বিবাহ ( অসবর্ণ বৈশ্য পাত্র + শূদ্র পাত্রী = অনুলোম বিবাহ ( অসবর্ণ বৈশ্য পাত্রী + শূদ্র পাত্র = প্রতিলোম বিবাহ ( অসবর্ণ এছাড়াও প্রত্যেক বর্নের মধ্যে আবার বিভিন্ন ভাগ আছে। সেখানে অনুলোম বিবাহ সেগুলি যেখানে পাত্র উচ্চ বর্ণের আর পাত্রী নিম্ন বর্ণের।এর উল্টো অর্থাৎ বিবাহে পাত্রী উচ্চ বর্ণের হলে সেটা প্রতিলোম বিবাহ হবে। প্রতিলোম বিবাহ সর্ব্বদা বর্জ্জনীয়। আমাদের শাস্ত্র প্রতিলোম সন্তানদের বিবাহ নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছে।তাই প্রতিলোমজাত সন্তানদের সমাজ থেকে পৃথক করে রাখা হত।সেই যুগে প্রতিলোমজাত সন্তানদের চন্ডাল বলা হত।সমাজের বাইরে থেকে তারা ওই জাতীয় কাজ করে সমাজের সেবা করত। এছাড়াও স্বগোত্র বিবাহও পারতপক্ষে করা উচিৎ নয়। চেষ্টা করলাম খুব সংক্ষেপে অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ বর্ননা করার। যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তবে দয়া করে জানাবেন।নতুন তথ্য দিলে খুশি হব। ★★★★★★★★★★ সৌজন্যে- আমার প্রিয় মানব দা (মানব দাস) *★★★★★★★★★★ বিবাহে সাবধান আমাদের জীবনে চলার পথে জানা-অজানায় নানা-রকম ভুলভ্রান্তি হয়, তার মধ্যে অনেক কিছু আমরা শুধরে নিতে পারি। কিন্তু বিবাহে যদি ভুল হয়ে যায়, সেইভুল আর ঠিক করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, নিজেই তো বটেই, সমাজ-পারিপার্শিক সমস্ত কিছু এর দ্বারা ধ্বংসের দিকে একটু-একটু করে এগিয়ে চলে। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর বারংবার বিবাহ সম্পর্কে সাবধান করেছেন। এখানে সংক্ষেপে বিবাহ সম্পর্কে তাঁর বিভিন্ন বলা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। -------------- ★বর্ণ চার প্রকার- বিপ্র, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র। ★গোত্র- গো-শব্দের উৎপত্তি গম্-ধাতু থেকে, অর্থ- গতি। আর 'ত্র' হ'ল ত্রৈ-ধাতু থেকে, মানে ত্রাণ করা। তাই গোত্র মানে দাঁড়াবে বংশের ধারা বা গতি যাঁর মাধ্যমে রক্ষিত হয় সেই স্মরনীয় পিতৃপুরুষ বা ঋষি। তিনিই গোত্র পিতা। ★প্রবর- প্রত্যেক গোত্রেরই একাধিক প্রবর থাকে। প্রবর মানে বংশের মধ্যে প্রকৃষ্ট বরণীয় ব্যক্তি। গোত্র প্রবর্ত্তক ঋষির ঔরসজাত সন্তান বা কৃষ্টিজাত সন্তানদের মধ্যে যিনি বা যাঁরা ভক্তি, জ্ঞা ন, গুণ, চরিত্র, কর্মদক্ষ, সাধনার দিক দিয়ে সবচেয়ে প্রকৃষ্ট বরণীয় তিনি বা তাঁরাই প্রবর নামে অভিহিত হয়ে থাকেন। এখানে মনে রাখতে হবে ভিন্ন গোত্র হলেও প্রবর এক হতে পারে। যেমন, বাৎস ও সাবর্ণ্য আলাদা গোত্র। কিন্তু এই দুই গোত্রের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ, কারন এই দুই গোত্রের প্রবর একই। অনেক সময় এমন হয় -কারো গোত্রের পাঁচটি প্রবর, তার মধ্যে কোন একটি প্রবর অন্য গোত্রের সাথে মিলে যাচ্ছে। সেখানে ঐ গোত্র দুটি ভিন্ন হলেও বিবাহ নিষিদ্ধ। যেমন, অত্রি ও কাত্যায়ন এই দু'টি গোত্রের তিনটি করে প্রবর, তার মধ্যে একটি প্রবর উভয়ের এক। অতএব, অত্রি গোত্রের সাথে কাত্যায়ন গোত্রের বিবাহ অবিধেয়। যদি একটি প্রবরও মিলে যায় তবে বুঝতে হবে অতীতে দুটি বংশধারা কোনওসময় এসে মিলে গিয়েছিল। এইভাবে রক্তের মিল হলে, ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে হলে যা হওয়ার তাই হবে। ফলে এই বিবাহ নিষিদ্ধ। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর- বললেন-" আপৎকালেও জনন-অনুশাসনকে অগ্রাহ্য ক'রো না।"(বিবাহ-বিধায়না,১৪৯)। ★ চারপ্রকার বর্ণের প্রতিলোমজাত সন্তানদের ছয় ভাগ করা হয়েছে। ১। ক্ষত্রিয়ের বিপ্রজাত কন্যাতে= সূত ২। বৈশ্যের ক্ষত্রিয়জাত কন্যাতে= মাগধ ৩। বৈশ্যের বিপ্রজাত কন্যাতে = বৈদেহ ৪। শুদ্রের বৈশ্যাজাত সন্তান = আয়োগব ৫। শুদ্রের ক্ষত্রিয়জাত সন্তান। = ক্ষতা ৬। শুদ্রের বিপ্রজাত কন্যাতে সন্তান=চন্ডাল। প্রতিলোমজাত ছেলে সন্তানদের বিবাহ নিষিদ্ধ। কিন্তু কন্যার বিবাহ দেয়া যাবে তবে তা অবশ্যই উচুবর্ণে।পরপর সাত পুরুষ ঐরকম শ্রেয় বরে বিবাহ হবার পর প্রতিলোম কন্যার প্রতিলোমের কুপ্রভাব দুর হতে পারে।(যাজ্ঞবল্ক-সংহিতা,১ম অধ্যায়) ★ চার বর্ণের অনুলোমজ সন্তানদের ছয়টিভাগ। ১। বিপ্রের ক্ষত্রিয়জাত সন্তান = মূর্ধাভিষিক্ত ২। বিপ্রের বৈশ্যাজাত সন্তান। = অম্বষ্ঠ ৩। বিপ্রের শুদ্রজাত সন্তান = পারশব ৪। ক্ষত্রিয়ের বৈশ্যজাত সন্তান_= মাহিষ্য ৫। ক্ষত্রিয়ের শুদ্রাজাত সন্তান = উগ্রক্ষত্রিয় ৬।বৈশ্যের শুদ্রজাত সন্তান। = করণ। অনুলোমজাত সন্তানদের বিবাহ সম্পর্কে ঠাকুর বলেছেন- অনুলোমজাত ছেলেদের বিবাহ হবে সমান থাকে অর্থাৎ মাতৃবর্ণ যেমন তেমন ঘরে। আর মেয়েদের বিবাহ হবে কমপক্ষে পিতৃবর্ণে। এর উল্টোপাল্টা করলে প্রতিলোম ঢুকে যাবার সম্ভাবনা। সমান-সমাণ বর্ণে বিবাহ - সদৃশ (শ্রেষ্ঠ)।। পুরুষের বর্ণ উচ্চ এবং নারীর বংশ নীচু- অনুলোম।। নারীর বংশ উচু এবং পুরুষের বর্ণ নীচু প্রতিলোম।। বংশানুক্রমিক কিছু ব্যাধি আছে সেগুলো নিয়ে খোজখবর নেয়া দরকার। যে বংশের সাথে বিয়ে হবে তার অন্ততঃ তিন পুরুষের মধ্যে কেউ পাগল আছে কিনা দেখতে হবে, বিশেষত মাতৃকুলে। যদি থাকে তবে সেই বংশে বিয়ে দিলে সন্তানদের মধ্যে পাগল হবার সম্ভাবনা স্বীকার করে নিয়ে তবে বিয়ে দিতে হবে। আমরা ঘোড়া-গরুর প্রজননের ব্যাপারে কখনই নিকৃষ্টজাতের ঘোড়া-ষাঁড় দ্বারা প্রজননক্রিয়া সম্পন্ন করাই না। সেখানে বীজের উকৃষ্টতা রক্ষা করে চলি। কারন সেটাই জীববিজ্ঞানেরর নিয়ম। অথচ মানুষের বেলায় আধুনিকতার দোহাই দিয়ে সৃষ্টিকে করে তুলি নিগৃহীত ও বিনিন্দিত। সব পাপের প্রায়শ্চিত আছে কিন্তু প্রতিলোমের কোন উপায় নেই। এটাই বিধির বিধান। একই বিপ্র বর্ণের মধ্যে দুইটি থাক আছে। কুলীন ও বংশজ। বংশজগন কুলীন বিপ্রদের চাইতে কোন কোন গুনে হীন। কুলীন বিপ্রসন্তান বংশজ মেয়েকে বিয়ে করতে পারে, কিন্তুু কখনও বংশজের ঘরে মেয়ে দিতে পারে না, দিলে প্রতিলোম হয়ে যাবে। বারেন্দ্রশ্রেনীর বিপ্রদের মধ্যেও দুটি ভাগ আছে, কুলীন ও কাপ। রাঢ়ী ও ও বারেন্দ্রশ্রনীর মধ্যে পরস্পর কন্যা আদানপ্রদানে কোন বাধা নেই। কারন এরা আদিতে একই ছিল। বিপ্রদের মধ্যে আরেকটি থাক হল 'শ্রোত্রিয়'। এরা নিম্নকৃষ্টিসম্পন্ন। রাঢ়ী, বারেন্দ্রশ্রেনীর কুলীন, ভঙ্গ কুলীন, কাপগন শ্রোত্রিয়ের মেয়ে নিতে পারেন কিন্তু শ্রোত্রিয়ের ঘরে মেয়ে দিতে পারেন না। বাংলার কায়স্থদের মধ্যে আছে কুলীন ও মৌলিক। এখানেও কুলীনেরা মৌলিকের মেয়ে নিতে পারে, কিন্তু মৌলিক কখনই কুলীনের মেয়ে বিয়ে করতে পারে না। ঘোষ,বসু,গুহ ও মিত্র উপাধি যাঁদের তাঁরাই কুলীন। মৌলিক কায়স্থদের আবার দুটি ভাগ- আটঘর এবং বাহাত্তরঘর। আটঘরের মৌলিকদের বলা হয় 'সিদ্ধ মৌলিক', এঁদের মধ্যে আছেন- সেন, সিংহ, দত্ত, দাস, কর, গুহ, পালিত, দেব। আর বাহাত্তরঘরেরর মধ্যে আছেন -হোড়, আইচ, সুর, ভঞ্জ, লোধ, হুই, রুদ্র, রক্ষিত, রাউত,তেজ,আশ,গুণ, বর্দ্ধন প্রভৃতি উপাধি। আটঘরের কায়স্থগন বাহাত্তরঘরেরর থেকে উচু। তাই আটঘরেরা বাহাত্তরঘর থেকে মেয়ে আনতে পারেন, কিন্তু দিতে পারবেন না। দিলে প্রতিলোম হবে। আবার শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন - "যজমান তার নিজের ঋত্বিকের কন্যাকে বিবাহ করতে পারে না, অন্যদিকে ঋত্বিক তার স্বীয় যজমানকে বিয়ে করতে পারে না, কারন যজমান শিষ্যা ও কন্যাসমা।" মেয়েদের বিয়ে দেরী হলেও ভাল কিন্তু নীচু বংশে বিয়ে দেয়া ভাল নয়। বিপ্র বা বামুনদের মধ্যে এক ধরনের পতিত বামুন আছে যাদের জেলের বামুন, কৈবর্ত্তের বামুন, মাহিষ্যের বামুন ইত্যাদি। বৈশ্য যদি শুদ্রের মেয়ে বিয়ে করে, তার সন্তান হয় করণ। আর করনের মেয়ে যদি বামুনে বিয়ে করে তাহলে তার সন্তান হয় তাম্বুলি। আবার তাম্বুলির মেয়ে যদি বামুনে বিয়ে করে তবে তাদের সন্তান হয় বারুজীবী। পারশবগণ বঙ্গদেশে নমঃশুদ্র নামে পরিচিত। এদের চারটি ভাগ। শ্রীপালী(শিউলি), ধানী, মগা, জিয়েনী। এদের মধ্যে শ্রীপালী যারা তাঁরাই পারশব। অন্য ৩টি থাকের সাথে শ্রীপালীদের বিবাহাদি চলবে না। শ্রীপালী ছেলেরা কেবল স্ব-সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ে করতে পারবে। বাইরে কোথাও করতে হলে উগ্রক্ষত্রিয়, করণ ও শুদ্র কন্যাকে বিয়ে করতে পারবে।পারশবরা বৈশ্য বা ক্ষত্রিয়ের মেয়ে বিয়ে করলে সেটা মায়ের দিক থেকে প্রতিলোম হবে। পারশব মেয়েদের স্ব-সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ে দিতে হবে।এছাড়া একমাত্র বিপ্রের সাথে দেয়া যায় অনুলোম বিধিতে। মাহিষ্য, উগ্রক্ষত্রিয়(আগুরী), করণ -এইসব অনুলোমজ সন্তানদের বিবাহ হবে অবশ্যই স্বঘরে অথবা ইষৎ অনুলোমক্রমিক হ'তে হবে। আবার অনুলোম বিয়ে করলেই তাতে সুফল ফলে না। এরও নীতি আছে, বিধি আছে। শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন - প্রথমে সবর্ণা বিবাহ করতে হবে। সেই সবর্ণা স্ত্রীর পুত্রসন্তান জাত হওয়া চাই। তারপর পুরুষ অসবর্ণা স্ত্রী গ্রহন করতে পারে। এমনতর ব্যবস্থার কারন, ঐ সবর্ণা স্ত্রীতে জাত পুত্রের মধ্য দিয়েই মানুষের পুরুষপরম্পরাগত বংশবৈশিষ্ট অবিকৃত ও অক্ষুন্ন থেকে প্রবাহিত হ'তে পারে। কিন্তু অনুলোমজাত ঐধারা ঠিক-ঠিক অবিকৃত থাকে না। অসবর্ণাজাত সন্তান সবর্ণাজাত সন্তান থেকে একটু নেমে যায়। সবর্ণাজাত পুত্রের মত তাদের দেবকার্য্য ও পিতৃকার্য্যে অধিকার থাকে না। এছাড়া -আবৃত(বিপ্রকর্ত্তক উগ্রকন্যায় জাত), আভীর( বিপ্রকর্ত্তক অম্বষ্ঠ কন্যায় জাত), ঝল্ল-মল্ল(ব্রাত্যক্ষত্রিয় কর্ত্তক সবর্ণা স্ত্রীতে জাত সন্তান), কোনাই চাষী, খড়িয়া, সূত্রধর, রথকার, শঙ্খবনিক এদের বর্ণ নির্ণীত না হওয়া পর্যন্ত্য সবারই বিবাহ স্বঘরে করতে হবে। "নবসায়ক" নামে ৯টি সম্প্রদায় আছে- গোপ, মালী, তন্ত্রী (তাঁতী), মোদক, বারুজীবী, কুম্ভকার, কর্ম্মকার, ও নাপিত এদের সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন- "যতদিন এদের বর্ণ নিঃসন্দিগ্ধভাবে স্থিরীকৃত না হচ্ছে ততদিন এদের বিয়ে-থাওয়া অবশ্যই নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে করতে হবে। "যত্র ত্বেতে পরিধ্বংসা জায়ন্তে বর্ণদূষকাঃ। রাষ্ট্রিকৈঃ সহ তদ্রাষ্টাং ক্ষিপ্রমেব বিনশ্যতি।" - যে রাষ্ট্রে সমাজধ্বংসকারী বর্ণদূষক জাতক জন্ম গ্রহন করে, রাজ্যবাসী সমস্ত প্রজাবর্গের সাথে সেই রাষ্ট্র অচিরেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।। (১০/৬১, মনুসংহিতা) আমরা দেখি সরকারি সুবিধা নেবার বেলায় নানা শ্রেণী তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে। বিভিন্ন ধর্মীয় আচারে নিজের সংস্কার পালন করে অথচ বিয়ের বেলাতে তখন আধুনিকতার দোহাই দেয়। তখন শ্রেনী গোত্র, সংস্কার কিছুই মানে না। আসুন আমরা গুরুভাইরা নিজেদের সন্তানদের আজ থেকেই বিবাহ-বিজ্ঞান বিষয়ে সচেতন করে তুলি। লজ্জাবশত: তাদের সামনে খোলামেলা আলোচনা না করলে তা নিজেদের ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। তাইতো শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন - উন্নয়ন আর সুপ্রজনন এই তো বিয়ের মূল যেমন তেমন ক'রে বিয়ে করিস্ না কো ভুল। ★ জয়গুরু ★